চাকরির পাশাপাশি ব্যবসা করতে চান?

শিক্ষাজীবন শেষ করেই শুরু হয়ে যায় কর্মজীবন। কর্মজীবনের সময় সীমিত। চাকরিতে অবসর গ্রহণের জন্য আছে বয়সসীমা। তাই সাধারণত একজন মানুষ ৪০ বছরের বেশি কর্মজীবন পান না। পছন্দসই পেশায় ভালো চাকরির জন্য অপেক্ষা করতে হলে কর্মজীবন হয়ে যায় আরো ছোট। ফলে কেউ যদি চাকরির পাশাপাশি ব্যবসাও করতে চান, তাহলে তাঁকে যেমন দক্ষ হতে হবে, তেমনি কৌশলিও হতে হবে। এখানে রইল ১০ পরামর্শ।

এক.

যাঁরা এখন ব্যবসা করছেন, তাঁরা যদি পাশাপাশি চাকরিও করতে চান তাহলে ব্যক্তি স্বাধীনতায় সবচেয়ে বড় বাধার সম্মুখীন হতে পারেন। চাকরি মানেই শৃঙ্খল। প্রতিষ্ঠানের পলিসি অনুযায়ী আপনাকে চলতে হবে। সুতরাং ব্যক্তি স্বাধীনতা বিসর্জন দেওয়ার জন্য তৈরি থাকবেন। যাঁরা এখন চাকরি করছেন, তাঁরা যদি পাশাপাশি ব্যবসা করতে চান, তাহলে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার চাপ সহ্য করার জন্য তৈরি থাকবেন। সীমিত অর্থের সঙ্গে চাকরির সম্পর্ক আছে, ব্যবসার নেই। ব্যবসায় টাকা চক্রাকারে ঘোরাতে পারতে হবে। চক্র থেমে যাবে, মুনাফাও থেমে যাবে।

দুই.

যে চাকরিতে সময় ও স্থান নির্ধারিত, সে চাকরির পাশাপাশি ব্যবসা চালানো সহজ। যে ব্যবসায় শারীরিক সময় বিনিয়োগ করতে হয় কম, সে ব্যবসার পাশাপাশি চাকরি করা সহজ। আরো পরিষ্কার করার জন্য উদাহরণ দিচ্ছি। সরকারি কলেজের বাংলার অধ্যাপক যত সহজে ব্যবসা করতে পারবেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিপণন ব্যবস্থাপক তত সহজে পারবেন না। একজন শেয়ার ব্যবসায়ী যত সহজে চাকরি করতে পারবেন, একজন মৎস্য ব্যবসায়ী তত সহজে পারবেন না। সুতরাং দুই কর্মকাণ্ড একসঙ্গে চালানোর জন্য হয় ব্যবসার, তা না হয় চাকরির ধরনটা অনুকূল হওয়া প্রয়োজন।

তিন.

আপনাকে একটি জটিল প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে। উত্তরটাও আপনাকেই দিতে হবে। প্রশ্নটি হচ্ছে, যদি আপনার সব মেধা আর সময় দিয়ে ব্যবসা অথবা চাকরি শুধু একটি কাজই করতেন তাহলে বেশি লাভ হতো? নাকি দুটি করেই বেশি লাভ করছেন? ভাবুন। সময় নিন। হিসেব কষুন। দক্ষ ও বিজ্ঞের পরামর্শ নিন। কিন্তু ভুল পথে পা বাড়াবেন না। আপনার হাতে নষ্ট করার মতো সময় খুব বেশি নেই।

চার.

চাকরির পাশাপাশি অন্য কোনো প্রকার আয়ের উৎসের সঙ্গে আপনার সম্পৃক্ততার ব্যাপারে আপনার প্রতিষ্ঠানের বিধি-নিষেধ থাকতে পারে। ফলে আপনি এমন কৌশল অবলম্বন করুন, যা আপনাকে বিধি-বিধানের সীমানায় ত্রুটিমুক্ত রাখবে।

পাঁচ.

চাকরির পাশাপাশি আপনি কি ব্যবসা করবেন? অথবা ব্যবসার পাশাপাশি আপনি কি চাকরি করবেন? এ ধরনের প্রশ্নের হাজারো উত্তর হতে পারে। কিন্তু এই উত্তরটি হওয়া চাই আপনার জন্য একান্ত উপযুক্ত। তাই আপনার যোগ্যতা, দক্ষতা, প্রয়োজনীয়তা ইত্যাদির ওপর ভিত্তি করে উত্তর খুঁজে নিতে হবে। আর আপনি যা ভাবছেন, তা আসলেই সঠিক কি না, সেটা যাচাইও করতে হবে।

ছয়.

পার্টনারশিপ ব্যবসায় চাকরি করা সহজ। পার্ট টাইম চাকরিতে ব্যবসা করা সহজ। আপনি যদি চাকরি বা ব্যবসার যেকোনো একটিতে দক্ষ হন, তাহলে দুটি কাজই চালাতে পারবেন। একটা কাজ হবে জলের মতো সহজ, অন্যটি হবে প্রচেষ্টার।

সাত.

যারা দুটি কাজ একসঙ্গে করতে চান, তারা তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম ও আরো অন্যান্য কাজ আংশিক বা পুরোপুরি জলাঞ্জলি দেওয়ার জন্য মানসিকভাবে তৈরি থাকবেন। যেমন পারিবারিক দায়িত্ব, সামাজিক দায়িত্ব, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো, বেড়াতে যাওয়া, শখ মেটানো এসব কাজের জন্য সময় বিনিয়োগ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।

আট.

নির্ঝঞ্ঝাট, সুশৃঙ্খল, সুস্থ ও পরিপাটি জীবন চাই। ব্যবসা এবং চাকরি চলবে সমান গতিতে। সাপোর্ট চাই আপনার জীবন সঙ্গীর। সাপোর্ট চাই বন্ধুদের। স্বজনদের। সবার। সঙ্গে চাই সময় জ্ঞান। চাই কাজের চাপ সহ্য করার ক্ষমতা এবং লোকবল পরিচালনার দক্ষতা।

নয়.

একটি কার্যকর অফিস চাই। অফিসের আকার ছোট হোক কিংবা ঘরের মধ্যেই হোক। তাতে কিছু যায় আসে না। বহু ব্যবসায় প্রথাগত অফিসের কোনো প্রয়োজনই নেই। একটা ভালো ল্যাপটপ আর মোবাইল হলেই কাজ চলে। অর্থাৎ ব্যবসার জন্য যা যা প্রয়োজন, সেগুলো থাকলেই চলবে। সঙ্গে চাই নিরাপত্তা আর যন্ত্রপাতি, যা সময় বাঁচাবে। কাজকে করে তুলবে আরো সহজ, দ্রুত ও নিখুঁত। আপনি কাজ করতে গিয়ে পদে পদে যেন বাধার সম্মুখীন না হন।

দশ.

দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবসা শুরু করতে হলে একটি ঠিকানা, একটি ট্রেড লাইসেন্স ও একটি টিআইএন নম্বর থাকা দরকার। ব্যবসার ধরন অনুযায়ী থাকতে হবে ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও একটি ব্যাংক হিসাব। একজন পেশাদার ইনকাম ট্যাক্স আইনজীবী এসব কাজে আপনাকে সহয়তা করবেন।

শেষ কথা

আগে ভাবুন ও সিদ্ধান্ত নিন। ব্যবসা শুরু করুন ও এগিয়ে চলুন। পরিস্থিতিই আপনাকে বলে দেবে আরো কী কী করতে হবে। সাহস করুন। কাজ করুন। আয় করুন। সময়কে কাজে লাগান। দক্ষতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করুন। কর্মজীবনের পরও আছে অবসর জীবন। অবসর জীবনকে সাচ্ছন্দ্যময় করে তুলতে চাই দুটি জিনিস-স্বাস্থ্য আর অর্থ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.