ভারতীয় যে গ্রামে কোরবানি এবং হোলির দহন নিষিদ্ধ!

এমনিতে ভারত জুড়ে অধিকাংশ রাজ্যে প্রকাশ্যে গো-হত্যা বা গরু জবাই করা যায় না। এই নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির সিংহভাগ অঞ্চলে মুসলমানরা কোরবানির ঈদে বকরি-দুম্বা-ভেড়া-উট কোরবানি দিয়ে থাকে- গরু জবাইয়ের চিন্তাও করে না। অনেক অঞ্চলে গরুর বদলে মহিষও কোরবানি দেওয়া হয়।

তবে উত্তর উদেশের একটি গ্রামের মুসলমানরা ঈদে ছাগলও কোরবানি দিতে পারে না। গত ১০ বছর ধরে চলে আসছে এই নিয়ম।

হিন্দি সংবাদ মাধ্যম জনসত্তা.কম জানায়, ২০০৭ সালে ভারতের উত্তর প্রদেশের সন্তকবির নগরের মুসহারা গ্রামে কবরস্থানের পাশে হোলি উৎসবের আগেরদিন দহন আয়োজন চলছিল। হোলিকা দহন অত্যন্ত ধুমধামের সঙ্গে পালন করা হয়। গাছের শুকনো ডাল বা কাঠসহ অন্যান্য দাহ্যবস্তু সংগ্রহ করে সু-উচ্চ একটি থাম বানিয়ে তাতে অগ্নিসংযোগ করে ‘হোলিকা দহন’ পালিত হয়। এর পরের দিন হয় রঙ খেলা তথা হোলি উৎসবের মূল পর্ব। কিন্তু মুসলমানদের কবরস্থানের পাশে এমন আয়োহনে গ্রামের বাসিন্দা মুসলিমরা আপত্তি জানায়। তো এমন উৎসবে বাধা পড়ার প্রতিক্রিয়ায় হিন্দুরা হন অসন্তুষ্ট।

পরিস্থিতি খারাপ দিকে মোড় নেয়।

এই নিয়ে শুরু হওয়া যুক্তিতর্কের লড়াই শারীরিক লড়াইয়ে রূপ নিতে যাচ্ছিল। উত্তপ্ত পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্থানীয় প্রশাসন এক ফয়সালা নিয়ে আসে সামনে। উভয় পক্ষের নেতাদের ডেকে এক চুক্তিতে স্বাক্ষর করায়। সেই চুক্তি মোতাবেক স্থির হয়- কোরবানির ঈদে মুসলমানরা পশু জবাই করতে পারবে না আর হোলির সময়ে হিন্দুরা ‘হোলিকা দহন’ বা হোলির দহন (চাঁচর) উৎসব করবে না।

উভয় পক্ষের নেতারা চুক্তিতে স্বাক্ষর করার পর থেকে এখন পর্যন্ত এটাই নিয়ম হিসেবে চলে আসছে মুসহারা গ্রামে। জানান স্থানীয় ধরম সিংহবা পুলিশ স্টেশনের ইনচার্জ শিব বরন যাদব।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত কোরবানির ঈদের সময়ে এই গ্রামের মুসলমানদের ছাগলগুলো জড়ো করে জেলা ভেটেরিনারি ডিপার্টমেন্টে জমা করা হয়। ঈদ-উৎসবের ৩ দিন পার হয়ে যাবার পরে যার যার ছাগল-বকরি ফিরে।

পুলিশ কর্মকর্তা আরো জানান, ঈদের ৩ দিন পর মুসলমানরা গ্রামে বকরি বা ছাগল জবাই করে। এরপর উৎসব মানায় তারা যাতে হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের লোকজনই জমায়েত হয়।

স্থানীয় এসপি শৈলেশ কুমার পান্ডে জানান, ওই গ্রামে বকরির ঈদের (কোরবানির ঈদ) কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। আর এই প্রথা গত এক দশক ধরে জারি আছে সেখানে।

হিন্দুদের হোলি পালনের রীতি-রেওয়াজের অংশ দহন-এর ওপরও নিষেধাজ্ঞা আছে একইভাবে। তার মতে, এতে লোকজন বিনা ‘পেরেশানিতে’ যার যার উৎসব পালন করে যাচ্ছে।

ভারতের ২৯টি রাজ্যের মধ্যে ২২টিতে প্রকাশ্যে গরু জবাই নিষিদ্ধ।

প্রসঙ্গত, হিন্দুপ্রধান বিশাল দেশটিতে মুসলমান, খ্রিস্টান এমনকি অনেক নিম্নবর্ণের হিন্দুরাও গরুর মাংস খেয়ে থাকে৷ তবে সিংহভাগ হিন্দু গরুর মাংস খায় না। ধর্মীয় মতে গরু বা গাই তাদের কাছে ‘গো-মাতা’ হিসেবে সম্মানের পাত্র৷

এদিকে, ২০১১-১২ সালে দেশটির ‘দ্য ন্যাশনাল স্যাম্পল সার্ভে অফিস’ (এনএসএসও) পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে দেশটির সোয়া এক কোটি হিন্দুও গরু-মহিষের মাংস খেয়ে থাকে। বিশ্বে গরুর মাংস রপ্তানিকারক দেশের তালিকায়ও ভারতের অবস্থান শীর্ষ স্থানে রয়েছে। দেখা যায় কোনো বছর ভারত আর কোনো বছর ব্রাজিল শীর্ষ রপ্তানিকারক হয়। এই দুটি দেশ বিশ্বের মোট গো-মাংস রপ্তানির ৪০{ea1b1ddc7bab4d173c4bb01e0c36b72bd6187afd405636adbb662d9e48e41baa}-এর যোগান দিয়ে থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.