ধানমন্ডিতে শিল্পপতির বাসায় জোড়া খুনের ঘটনা

noashad

রাজধানীর ধানমন্ডিতে গৃহকর্ত্রী ও ‍গৃহকর্মীকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় ওই বাসার নতুন এক গৃহকর্মী জড়িত থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছে পুলিশ। হত্যার পর নতুন ওই গৃহকর্মী বাসা থেকে পালিয়ে গেছে, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে এমন ধারণাই করছে পুলিশ।

ধানমন্ডি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আশফাক রাজীব হাসান এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘গতকালের এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুজনকে আটক করা হয়েছে। তারা থানার হেফাজতে রয়েছে। আমরা যত দূর জানি, আফরোজার পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হবে। আটক দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।’

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যার পর ধানমন্ডি ২৮ নম্বর সড়কের ২১ নম্বর বাসার পঞ্চম তলায় মনির উদ্দিন নামের এক শিল্পপতির ফ্ল্যাটে জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত দুজন হলেন আফরোজা বেগম (৬৫) ও গৃহকর্মী দিতি (১৭)। মনির উদ্দিন তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর একজন পরিচালক। আফরোজা বেগম সম্পর্কে তাঁর শাশুড়ি।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহত দুজনের গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। আশপাশের লোকজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে পুলিশ ভেতরে ঢোকে। ফ্ল্যাটের দুটি আলাদা কক্ষে দুজনের লাশ পাওয়া গেছে। আশপাশের লোকজনকে জিজ্ঞেস করে জানা গেছে, কয়েক দিন আগে নতুন একজন গৃহপরিচারিকা ওই ফ্ল্যাটে কাজ শুরু করেন। এ ঘটনায় ওই গৃহকর্মী জড়িত কি না, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শিল্পপতি মনিরের দেহরক্ষী বাচ্চু ও ভবনের এক নিরাপত্তাকর্মীকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মনির উদ্দিন নামের এক শিল্পপতির ফ্ল্যাটে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তিনি তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর একজন পরিচালক। তিনি টিনটেক নামের একটি গার্মেন্টসের মালিক। ছয়তলা ভবনটির এফ-৪ ফ্ল্যাটে এই ঘটনা ঘটেছে। ফ্ল্যাটে মনির উদ্দিনের শাশুড়ি ও গৃহকর্মী থাকতেন। ভবনে মনিরের মালিকানাধীন মোট চারটি ফ্ল্যাট আছে। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে খবর পেয়ে ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল লতিফসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান।

পুলিশের ধানমন্ডি জোনের সহকারী কমিশনার হাসিনুজ্জামান বলেন, ‘আমরা বাসার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পেয়েছি। বাসাটিতে যে নতুন গৃহকর্মী এসেছিল, তাকে আমরা সন্দেহ করছি। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে এখনও তার পরিচয় জানা যায়নি। যে ব্যক্তি তাকে এই বাসায় নিয়ে এসেছিল, তার মাধ্যমে ওই নতুন গৃহকর্মীর তথ্য এবং সিসি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে ছবি পেয়েছি।’

নিহত আফরোজা বেগমের জামাই শিল্পপতি মনির উদ্দিন তারিম বলেন, ‘বাসা থেকে মোবাইল ও স্বর্ণালংকার খোয়া গেছে।’ পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, বাসা থেকে টাকা-পয়সা ও মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাদের হত্যা করা হতে পারে। তাদের ফ্ল্যাটের আলমারি খোলা ও এলোমেলো ছিল।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.