কাবাডিতে প্রস্তুতি ম্যাচ না খেলার আক্ষেপ

এশিয়ান গেমসে বংলাদেশের পদক ১২টি। এর সাতটিই কাবাডির। বাংলাদেশের জন্য কাবাডি কত গুরুত্বপূর্ণ এ তথ্যই বলছে সেটা। সেই কাবাডিতে ছেলেদের দল সব শেষ ব্রোঞ্জ পেয়েছে ২০০৬ দোহা এশিয়ান গেমসে। আর সব শেষ রুপা ২০০২ সালের বুসানে। মেয়েদের দল টানা দুই আসরে পেয়েছে ব্রোঞ্জ। অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা তাই আশাবাদী জাকার্তায় অন্তত রুপা বা ব্রোঞ্জ এনে দেবে কাবাডি, ‘আমরা সবচেয়ে সফল কাবাডিতে। এ ইভেন্ট থেকে এসেছে সবচেয়ে বেশি পদক। এবারও আমার প্রত্যাশা, দেশের জন্য পদক জিতবে ছেলে বা মেয়েদের দল। আশা করছি পদক নিয়েই ফিরবে ওরা।’

শাহেদ রেজা আশাবাদী হলেও বাস্তবতা আলাদা। মেয়েদের কাবাডি দলের কোচ আব্দুল জলিল তাই গলাবাজি করতে রাজি নন। বাস্তবতাটা ভালোই বোঝেন তিনি। এ জন্য ভাসছেন না আশার ভেলায়, ‘আমরা ২০১০ সালে গুয়াংজু আর ২০১৪ সালে ইনচিয়নে ব্রোঞ্জ জিতেছি। অনেক বড় সাফল্য এটা। বাস্তবতা হচ্ছে, সেই দুটি আসরে প্রতিষ্ঠিত অনেক শক্তি অংশ নেয়নি। এবার প্রেক্ষাপট আলাদা। ইরান, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা, জাপান খেলছে। আমাদের চেয়ে এগিয়েও গেছে ওরা। পদক জিততে হলে বিশেষ কিছু করতে হবে আমাদের।’

বাংলাদেশ কাবাডি দল এশিয়ান গেমস সামনে রেখে অনুশীলন করছে টানা ৯ মাস। এত দীর্ঘমেয়াদি ক্যাম্প খুব কমই হয়েছে অতীতে। এর পরও কেন পদক জয়ে দৃঢ় শোনাচ্ছে না কোচের গলা? কারণটা জানাচ্ছেন আব্দুল জলিল নিজেই, ‘আসলে ক্যাম্পে অনুশীলন আর কোর্টে খেলার মধ্যে তফাত আছে। আমরা অনুশীলন করছি ঠিকই; কিন্তু আন্তর্জাতিক কোনো দলের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচের সুযোগ পাইনি। ম্যাচ খেলতে পারলে নিজেদের ভুলগুলো বুঝতে পারতাম। এখন সেটা বুঝতে হবে আসল টুর্নামেন্টে গিয়ে। এটাই যা ভয়ের।’

মেয়েদের কাবাডি দলের অন্যতম অভিজ্ঞ খেলোয়াড় শাহনাজ পারভিন মালেকা। গত এশিয়ান গেমসের ব্রোঞ্জজয়ী দলে ছিলেন তিনি। মালেকাও বলছেন প্রীতি ম্যাচ খেলতে না পারার আক্ষেপের কথা। এর পরও দলে অভিজ্ঞ আর তরুণী খেলোয়াড় থাকায় হতাশায় মুষড়ে পড়ছেন না মালেকা, ‘এটা ঠিক যে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলা হয়নি আমাদের। প্রতিপক্ষ দলগুলো একাধিক ম্যাচ খেলে তৈরি হয়ে আসছে। এখানে পিছিয়ে আমরা। তার পরও দল টানা অনুশীলনের মধ্যে আছে। অভিজ্ঞ আর নতুনদের সমন্বয়টা ভালো। এ জন্য আশা নিয়ে জাকার্তা যাব আমরা।’

ছেলেদের কাবাডি দল ১৯৯০ বেইজিং এশিয়ান গেমসে জিতেছিল রুপা। ১৯৯৪ সালে হিরোশিমাতেও ধরে রাখে সেটা। ১৯৯৮ সালের ব্যাংকক এশিয়ান গেমসে রুপাটা নেমে আসে ব্রোঞ্জে। ২০০২ সালে বুসানে রুপা জেতে আবারও। ২০০৬ সালে দোহায় পায় ব্রোঞ্জ। এরপর থেকে পদকহীন ছেলেদের কাবাডি দল। ১২ বছরের আক্ষেপ কি মিটবে জাকার্তায়? কোচ সবিমল চন্দ্র দাস জানালেন নিজেদের উজাড় করে চেষ্টা করার কথা, ‘এশিয়ান গেমস কঠিন হয়ে গেছে অনেক। আগে কাবাডিতে শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতো এক বা দুটি দলের সঙ্গে। এখন আরো অনেকে উন্নতি করছে আর আমরা পেছাচ্ছি। কেন পিছিয়ে পড়ছি সবারই জানা। তবে এবার আমরা টানা অনুশীলনের মধ্যে আছি। প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে পারলে ভালো হতো। যা হয়নি, সেটা নিয়ে আক্ষেপ না করে নিজেদের সর্বোচ্চটা চেষ্টা করতে চাই।’

গত ৯ মাস ক্যাম্প চললেও প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে না পারার আক্ষেপ দলের সবার। তবে ভারত ও পাকিস্তানের প্রো কাবাডি লিগে এই সময়ে খেলেছেন বাংলাদেশের ছয়জন। তাঁরা হচ্ছেন জিয়াউর রহমান, আরদুজ জামান মুন্সী, তুহিন তরফদার, জাকির হোসেন, সবুজ মিয়া ও মাসুদ করিম। জিয়াউর রহমান নামে বাংলাদেশ কাবাডির কিংবদন্তি রয়েছেন একজন। তাঁর নামের সঙ্গে মিল থাকা জিয়া চান জাকার্তায় ভালো কিছু করতে, ‘আমরা দীর্ঘদিন পদক জিতিনি। এবার পদক জেতার সামর্থ্য আছে এই দলের। সবাই আত্মবিশ্বাসী। প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে পারলে ভালো হতো। কিন্তু এ নিয়ে এখন আফসোস করে কী হবে?’

অধিনায়ক মাসুদ করিম অবশ্য জিয়াউর রহমানের মতো পদক জেতা নিয়ে উচ্চকিত নন। তবে ভালো করতে চান তিনিও, ‘আমিও মনে করি জাকার্তায় ভালো করার সামর্থ্য আছে দলের। তবে কাজটা খুবই কঠিন। দেশবাসীর দোয়া চাই।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.