ঢাকা শহরে নতুন আসলে আপনি যা এড়িয়ে চলা উচিৎ – ১ম পর্ব

আজকে আমি কথা বলবো ঢাকা সিটিতে এসে আমরা কোন কোন বিষয় গুলো এড়িয়ে চলবো। আমরা কম বেশি সবাই বিষয় গুলো সম্পর্কে জানি কিন্তু অনেকেই জানে না এবং জেনেও অনেকে বিষয় গুলো এড়িয়ে চলেন। কিন্তু এই ব্যাপার গুলো সম্পর্কে আমাদের সবার জানা উচিত এবং সচেতনতা বাড়ানো উচিত এসব ব্যাপারে। তো চলুন আমরা শুরু করি।


। চাকুরী বিজ্ঞাপন এবং প্রতারণাঃ যারা ঢাকা শহরে নতুন আসেন তাদের কে লক্ষ্য করেই মুলত এই ধরনের প্রতারণা হয়ে থাকে।আমরা যারা ঢাকা শহরে প্রতিদিন নানা কাজে বের হই তারা লক্ষ্য করে দেখবেন লোকাল বাস এবং রাস্তার পাশে পার্ট টাইম এবং ফুল টাইম বিভিন্ন চাকুরী বিজ্ঞাপন দেয়া থাকে। এসকল বিজ্ঞাপন গুলোতে খুবই লোভনীয় বেতন ভাতা এবং নানা রকম সুযোগ সুবিধার কথা উল্লেখ করা থাকে যা দেখে যে কেউ এসব ফাঁদে পা দিতে পারে। যারা এসব ফাঁদে ভুল করে পা দিয়ে ফেলেন তারা নানা রকম হয়রানি সহ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে। আমাদের সবার উচিত হবে এসকল ব্যাপার গুলো থেকে নিজেকে দুরে রাখা এবং এসকল প্রতারণা সম্পর্কে সচেতনা তৈরি করা।

২। ট্রেনিং সেন্টার এবং কোর্স শিক্ষা প্রতারণাঃ ইদানীং কালে ঢাকা শহর ঘুরলে এত এত পরিমাণ ট্রেনিং সেন্টার আর বিভিন্ন কোর্স শিক্ষার প্রতিষ্ঠান পাওয়া যায় যে ঢাকা শহরকে দেখলে মাঝে মাঝে ট্রেনিং সেন্টার এর শহর মনে হতে পারে।বিশেষ করে নতুন যারা ছাত্র আসে ঢাকা শহরে তাদেরকে লক্ষ্য করে এই ধরনের প্রতারকরা কার্যক্রম চালিয়ে থাকে।এসকল প্রতারকরা কম মূল্য অথবা কাজ শিখে টাকা পরিশোধ করুন এমন লোভনীয় বিজ্ঞাপন এর মাধ্যমে মানুষদের টার্গেট করে এবং তাদের কাছ থেকে টাকা সহ অনেক রকম মূল্যবান কাগজ পত্র আটকে রেখে টাকা আদায় করে থাকে।

৩। গহ শিক্ষক/শিক্ষিকা নিয়োগ প্রতারণাঃ নতুন যখন বেকার অথবা ছাত্ররা কেউ ঢাকা শহরে আসেন তাদের অনেকের ইচ্ছে থাকে কিছু না করে টিউশনি করানো কারণ অনেকের কাছে এটি একটি সম্মানের পেশা। তো ঢাকা শহরে অনেক স্থানে এমন বিজ্ঞাপন দেখে থাকবেন যে টিউশন দিচ্ছি/নিচ্ছি। সে সকল বিজ্ঞাপন গুলো যারা নতুন তাদের মনে অনেক আশার সঞ্চালন করে এবং তারা এসকল প্রতিষ্ঠানের সাথে টিউশনি করাবে এমন আশায় যোগাযোগ করে। আসলে এসকল নিয়োগ প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগ ভুয়া এবং প্রতারক হয়ে থাকে।যাওয়ার পর এরা রেজিস্ট্রেশন এর নাম করে টাকা হাতিয়ে নেয় এবং একটা সময় এদেরকে আর খুঁজে পাওয়া যায় না। সেই ক্ষেত্রে যারা নতুন আসবেন ঢাকা শহরে তারা দয়া করে দেখে শুনে এসকল ব্যাপারে জড়াবেন।

৪। ভিসা সেন্টার এর নামে প্রতারণাঃ বিদেশ ভ্রমণ এবং বিদেশের কর্ম এই জিনিস অনেক মানুষের কাছে অনেকটা স্বপ্নের মত। কে না চায় দেশের বাহিরে গিয়ে কিছু একটা করার।আপনাদের সেই দুর্বলতা টাকে কাজে লাগিয়ে হয়ে থাকে এমন প্রতারণা। মোটামুটি ঢাকা শহরে যারা থাকে তারা এসব ব্যাপারে সচেতন হলেও নতুন ছাত্র বা বেকার লোক যখন আসে তারা এগুলা দেখে অনুপ্রাণিত হয়। বিশেষ করে স্কলারশিপ জন্য ছাত্ররা আবেদন করে থাকে এবং এসব ভিসা সেন্টার গুলো ফাইল প্রসেসিং সহ নানা রকম খাতে টাকা আদায় করে থাকে। কিন্তু এরা আসলে ভিসা দিতে পারে না। অনেকের কাছে থেকে কিছু পরিমাণ টাকা আদায় করে মোটা অংকের টাকা বানানোই এদের মূল টার্গেট থাকে। এ ক্ষেত্রে সবার সচেতন থাকা উচিত এবং চোখ খোলা রেখে চলা উচিত।

৫। ব্যবহার করা মোবাইল এবং ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী ক্রয় বিক্রয়ঃ এই ধরনের প্রতারণা গুলো হয়ে থাকে মার্কেট ভিত্তিক। আমরা অনেকেই সামর্থ না থাকার কারণে অনেক সময় অনেক কিছুই কিনতে পারি না। কিন্তু জিনিস গুলো আমাদের প্রয়োজন থাকে তখন আমাদের মাথায় আসে যে আমরা সেকেন্ড হ্যান্ড কোণ পণ্য কিনবো। অনেক মার্কেট এর দোকান রা অবৈধ ভাবে বিদেশ থেকে খুব বাজে ধরনের ব্যবহার করা সামগ্রী আমদানি করে থাকে এবং মানুষদের কাছে সেগুলা অল্প দিন ব্যবহার করা এবং ফ্রেশ জিনিস বলে বিক্রি করে এবং যখন এসব জিনিসে সমস্যা ধরা পড়ে তখন তারা সেগুলার ব্যাপারে কোন সাহায্য করে না বরং নানা ভাবে হয়রানি করে থাকে। অতএব পুরনো জিনিস কিনার ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে।
৬। পার্ক এবং বিনোদন কেন্দ্র প্রতারণাঃ পার্ক অথবা বিনোদন কেন্দ্রে আমরা যাই আমাদের ছুটির দিন গুলো ভালোভাবে কাটাতে অথবা একটু শান্ত পরিবেশে সময় কাটাতে কিন্তু আমাদের এই সময় কে যে কোন সময় ভণ্ডুল করে দিতে পারে কিছু প্রতারক চক্র। বিশেষ করে যারা ঢাকা শহরে নতুন আসেন তারা এদের খপ্পরে বেশি পড়ে থাকে। আপনি হয়তো পার্ক এ বসে আছেন হুট করে কেউ আপনার কাছে এসে কিছু জিনিস বিক্রি করতে চাইবে। আপনি কিনতে না চাইলে তারা আপনাকে তার পণ্য কিনতে বাধ্য করবে এবং না কিনলে আপনাকে লাঞ্ছিত করবে। তাই উচিত হবে এসকল লোক দেখলে সেফ কোন যায়গায় যাওয়া এবং মানুষ জন বেশি বসে এমন স্থানে বসা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.