মাটি পরীক্ষা বা সয়েল টেস্ট কি? কেন করবেন? কীভাবে করবেন?

সঠিক ফাউন্ডেশন ডিজাইন এবং সঠিক ব্যয় বা খরচ নির্ধারণে মাটি পরীক্ষা (সয়েল টেস্ট) অত্যাবশ্যক। এখানে জেনে রাখা দরকার যে, নির্মাণ সাইটে মাটি পরীক্ষা ব্যতীত বাড়ির ফাউন্ডেশন ডিজাইন সম্ভব নয়। কোন নিচু জায়গা কিংবা ভরাট মাটির জায়গায় নির্মাণ কাজে অবশ্যই মাটি পরীক্ষা করতে হবে।

সাইটে মাটি পরীক্ষার (সয়েল টেস্টের) পদ্ধতিসমূহঃ

১. সাইট বা প্লট পরিদর্শন ও জরিপ করা।
২. ফিল্ডের অবস্থা অনুযায়ী বোরিং সংখ্যা ও স্থান  নির্বাচন করা এবং সেই অনুযায়ী বোরিং কাজ সম্পন্ন করা।
৩. প্রয়োজন অনুযায়ী বোরিং গভীরতা নির্ধারণ করা।
৪. প্রত্যেক বোরিং স্থানে মাটির অক্ষত এবং বিক্ষত নমুনা সংগ্রহ করা এবং ল্যাবরেটরীতে পরীক্ষা করা।
৫. বোরিং বা ড্রিলিং-এর সাহায্যে ৫ ফুট অন্তর মাটির এস.পি.টি (S.P.T) ভ্যালু নির্ণয় করা এবং মাটির নিরাপদ ভারবহন ক্ষমতা (সেফ বিয়ারিং ক্যাপাসিটি) বের করা।
৬. ফিল্ড টেস্ট এবং ল্যাব টেস্টেও ফলাফল বের করা।
৭. অবশেষে মাটি পরীক্ষার চূড়ান্ত রিপোর্ট তৈরী করা এবং সেই অনুযায়ী বাড়ির ফাউন্ডেশন সম্পর্কে মন্তব্য করা।

বোরিং স্থান নির্ধারণ (বোরিং সংখ্যা ও দূরত্ব অনুযায়ী)

বি:দ্র: সাধারণ নিয়মঅনুযায়ী প্রতি তলা বিল্ডিং-এর জন্য ৩ মিটার বোরিং করতে হবে।

বিল্ডিং-এর প্রস্থ বা পার্শ্ব দিক অনুযায়ী বোরিং গভীরতা নিম্নরূপঃ

মাটি পরীক্ষার টেস্ট সাধারণত দুই প্রকার

১. মাটির ফিল্ড টেস্ট

ক. প্লেট লোড বেয়ারিং টেস্টঃ ইহা সাধারণ যন্ত্র পরিচালিত পদ্ধতি যা দ্বারা মাটির যে কোন স্তরে চূড়ান্ত  বেয়ারিং ক্যাপাসিটি এবং মাটির সংকোচন মাপা যায় বা নির্ণয় করা যায়। অধিকিন্তু এই টেস্ট দ্বারা নির্ণীত ফলাফল তুলনা এবং সত্যতা যাচাই করা যায়।

খ. এস.পি.টি (S.P.T ) টেস্টঃ এস.পি.টি ( S.P.T = Standard Penetration Test) – এর মাধ্যমে মাটির এন (ঘ) ভ্যালু Value () যেমন নির্ণয় করা যায় তেমনি সংগৃহীত মাটির নমুনা Soil (Sample)

ল্যাবরেটরীতে টেস্ট করা হয়। ফিল্ডে প্রতিটি বোরিং ৫ ফুট পর পর এন (ঘ) ভ্যালু Value() নির্ণয় করা হয়, যাহা মাটির ভারবহন ক্ষমতা সরাসরি দিক নির্দেশনা দিয়ে থাকে।

বি :দ্র : এস.পি.টি  (S.P.T ) ভ্যালুর সাহায্যে ফিল্ডে সরাসরি মাটির ভারবহন ক্ষমতা (বেয়ারিং ক্যাপাসিটি) নির্ণয় এবং পরীক্ষা করা যায়।

২. মাটির ল্যাব টেস্টঃ

ASTM – অনুযায়ী মাটির ল্যাব টেস্টসমূহ সাধারণত নিম্নরুপঃ
ক) ময়েশ্চার কনটেন্ট টেস্ট
খ) প্লাস্টিসিটি টেস্ট
গ) আপেক্ষিক গুরুত্ব টেস্ট
ঘ) ঘনত্ব টেস্ট
ঙ) কনসোলিডেশন টেস্ট
চ) ডাইরেক্ট শেয়ার টেস্ট, ইত্যাদি।

বি:দ্র: উপরোক্ত টেস্টের ফলাফলের মাধ্যমে মাটি পরীক্ষার চূড়ান্ত রিপোর্ট তৈরী এবং মন্তব্য করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.