কোরআন পড়ে ‘ঘুষ খাব না’ শপথ নিলেন ব্যাংকাররা

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সামনে এখন থেকে আর ‘ঘুষ খাবেন না’ বলে শপথ নিয়েছেন সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সোমবার (২৫ মার্চ) রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে আইডিবি ভবনে ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজেই এ শপথ পড়ান অর্থমন্ত্রী। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সামনে এখন থেকে আর ‘ঘুষ খাবেন না’ বলে শপথ নিয়েছেন সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সোমবার (২৫ মার্চ) রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে আইডিবি ভবনে ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজেই এ শপথ পড়ান অর্থমন্ত্রী। ‘আমি বিশ্বাস করি, সততার সঙ্গে কাজ করলে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে আমরা অবশ্যই পৌঁছাব।’ অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী ছাড়াও সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান আশরাফুল মকবুল, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

গভর্নর ফজলে কবির বলেন, সোনালী ব্যাংক অনেক সেক্টরে ভালো করলেও প্রভিশন ঘাটতি অনেক বেশি। অবলোপনকৃত ঋণের পরিমাণ খুব একটা কমেনি এবং শ্রেণিকৃত ঋণেরও (খেলাপি ঋণ) উন্নতি দেখা যাচ্ছে না। শ্রেণিকৃত ঋণের ৯০ শতাংশই মন্দ। এ বিষয়গুলো মাথায় রেখে কাজ করতে হবে। শ্রেণিকৃত ঋণ আদায়ে প্রথমেই মামলা না করে আলোচনার মাধ্যমে টাকা আদায়ের চেষ্টা করার পরামর্শও দেন তিনি। একই সঙ্গে একক খাতে ঋণ না দিয়ে তা সমন্বয়ের পরামর্শ দেন গভর্নর। সম্মেলন শেষে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, যারা ভালো ঋণ গ্রহীতা, ব্যাংকের টাকা নিয়মিত পরিশোধ করে তাদের ক্ষেত্রে সুদের হার কমে ৭ শতাংশ হবে। এসব ঋণ গ্রহীতা হয়তো ১০ থেকে ১২ শতাংশ সুদে ঋণ নিয়েছিলেন। আর যারা অসাধু ঋণ গ্রহীতাদের পেনাল্টি করা হবে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে চলতি বছরের মে থেকে।

‘ভালো ও অসাধু ঋণ গ্রহীতার সংজ্ঞা’ দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমি ১০ বার ব্যাংক থেকে টাকা নিলাম অথচ দিলাম না, আমি কি ভালো? আমি দুইবার টাকা নিলাম দিলাম না, আমি ভালো? অথবা ১০ বার এক্সপোর্ট করলাম একবারও টাকা ব্যাংকে ঢুকালাম না, তারা কি ভালো? এরা অসাধু এদের খুঁজে বের করে প্যানাল্টির ব্যবস্থা করা হবে। ‘তবে যারা ব্যাংকের টাকা নিয়ে ভালো উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেন এবং নিয়মিত টাকা পরিশোধ করেন তাদের জন্য সুদ কমানো হবে। ছোট ঋণ গ্রহীতা ও বড় ঋণ গ্রহীতারা ঋণ পরিশোধ করবেন, বাকি ব্যালেন্সে ৭ শতাংশ সুদ হবে। এসব ঋণে হয়তো ১২ অথবা ১৩ শতাংশ সুদ ছিলো। কিন্তু আর এতো সুদ দিতে হবে না, এখন ৭ শতাংশ সুদ দিলেই হবে।’ তিনি বলেন, আমাদের সাবেক অর্থমন্ত্রী (আবুল মাল আবদুল মুহিত) এই বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তারই ধারাবাহিতকায় আমরা বসেছিলাম। আমাদের ব্যাংকার লাগবে, পাশাপাশি ঋণ গ্রহীতাদেরও লাগবে। ঋণ গ্রহীতাদের কোনো বিকল্প নাই। তারাই আমাদের দারিদ্র্য দূর করেন এবং দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেন। তাদের বাদ দিয়ে চলার কোনো উপায় নেই। তাই কীভাবে তাদের সুযোগ-সুবিধা দেয়া যায় সেই বিষয়ে আলোচনা করেছি। অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল বলেন, ব্যবসা করলে সারা জীবন লাভ হবে না। ব্যবসায়ীরা অনেক কষ্ট করেন। কখনও তারা লোকসানের মুখে পড়েন। ব্যবসায়ীদের লাভ হলে সরকার খুশি হয়, কারণ সরকার ট্যাক্স পায়, দেশে প্রচুর কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে যখন ব্যবসায়ীদের লোকসান হয় তখন সরকার থেকে তারা তেমন সুযোগ-সুবিধা পান না। আমরা এসব ত্রুটি বিচ্যুতি দূর করতে চাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published.