প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা চান সাংবাদিক ইমরান

রাজশাহীর তানোরের সাংবাদিক ইমরান হোসাইন হাতুড়ির আঘাতে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এলেও শরীরের অর্ধেক অংশ অচল হয়ে গেছে।

টানা কয়েকমাসের ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ মেটাতে গিয়ে এখন নিঃস্ব তার পরিবার। ফলে অর্থের অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে চিকিৎসা। এ অবস্থায় সুস্থ হতে এখন প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা চেয়েছেন অসহায় এই সাংবাদিক।

ইমরান হোসাইন দৈনিক যুগান্তরের তানোর উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন। সংবাদের খোঁজে ছুটতেন বরেন্দ্রের এ প্রান্তর থেকে ও প্রান্তর। এখন তার বাম চোখ, হাত ও পা অচল। চলাফেরা তো দূরের কথা; উঠেও দাঁড়াতে পারেন না। কেউ ধরে বসিয়ে দিলে বসেন। তা না হলে শুয়ে থাকেন সারাক্ষণ।

শরীরের বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে চর্মরোগ। দীর্ঘদিনেও সেই ঘা শুকোচ্ছে না।

তানোর পৌর এলাকার জিওল চাঁনপুর মহল্লায় ইমরান হোসাইনের বাড়ি। ইমরান পৌর যুবলীগের সাবেক দফতর সম্পাদক। তানোর প্রেসক্লাবেরও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর প্রেসক্লাব থেকে ফিরে বাড়ির সামনে চায়ের দোকানে বসে ছিলেন ইমরান। এ সময় পূর্ববিরোধের জেরে ছোট ভাই মওদুদ আহমেদ তার ওপরে হাতুড়ি নিয়ে হামলা করেন।

মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ইমরান। মগজ বের হয়ে যায় মাথা থেকে। চিকিৎসকরা তার বাঁচার আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন। তবে ইমরানের মাথায় অস্ত্রোপচার শেষে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয় ১১ দিন। প্রায় দেড় মাস পর কিছুটা সুস্থ হন ইমরান। ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ মেটাতে চাষের জমি আর গরু বিক্রি করেন তার পরিবার।

এখন টাকার অভাবে তার চিকিৎসা থেমে গেছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির এমন দশায় সংসারে দেখা দিয়েছে চরম অনটন। টাকার অভাবে ইমরানের দুই ছেলেমেয়ের লেখাপড়াও এখন বন্ধ হওয়ার উপক্রম।

ইমরানেরও দরকার উন্নত চিকিৎসা। কিন্তু তার কিছুই হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে কবিরাজের চিকিৎসায় বিশ্বাস রাখতে হচ্ছে এক সময়ের তুখোড় এই সাংবাদিককে।

ইমরান হোসাইন জানান, চিকিৎসক তাকে এক মাস পরপর তার কাছে যেতে বলেছিলেন। কিন্তু মাসের পর মাস পেরিয়ে গেলেও টাকার অভাবে তিনি চিকিৎসের কাছে যেতে পারছেন না। এক চোখের সমস্যার জন্য বিদেশেও যেতে পারছেন না। বর্তমানে তার চিকিৎসা ও সংসার পুরোপুরি সাহায্যনির্ভর হয়ে পড়েছেও বলে জানান তিনি।

ইমরানের স্ত্রী তহমিনা বেগম জানান, কিছু জমি ও দুটি গরু বিক্রি করে চিকিৎসার ব্যয়ভার মেটানো হয়েছে। পরে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ কয়েকজনের ব্যক্তিগত সহায়তায় কিছুদিন চিকিৎসা চলে। দামি দামি সব ওষুধ আর ইনজেকশনে সেসব টাকা শেষ। এখন টাকার অভাবে কবিরাজি চিকিৎসা করাচ্ছেন। কিন্তু চিকিৎসক বলেছেন, ইমরানের উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন।

অসুস্থ সাংবাদিক ইমরান বলেন, যতদিন সাংবাদিকতা করেছি, মানুষের জন্য কাজ করেছি। আমার প্রকাশ করা সংবাদ দেখে অনেক মানুষ অনেক অসহায়ের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। এখন আমি পঙ্গু। আমার পাশে কি কেউ দাঁড়াবে না? প্রধানমন্ত্রীও তো অনেক মানুষকে সহায়তা করেন। তাদের জীবন বাঁচান। তিনি আমাকে একটু সহায়তা করলে হয়তো আমি উঠে দাঁড়াতে পারতাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published.